রোমাঞ্চকর লড়াই ছাপিয়ে আলোচনায় মেসির গোল বাতিল

জিতলে বার্সেলোনা এগিয়ে যাবে ৭ পয়েন্টে। হেরে গেলে বার্সার সঙ্গে ভ্যালেন্সিয়ার পয়েন্ট ব্যবধান নেমে আসবে মাত্র ১-এ। লা লিগার টেবিলের শীর্ষ দুই দলের লড়াইটাকে ‌‘ছয় পয়েন্টের ম্যাচ’ নাম দিয়েছিল স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। দুই ম্যাচের (এক ম্যাচে ৩ পয়েন্ট হিসাবে) সমান এক ম্যাচ যেন। তা উত্তেজনা ও খেলার মানে দ্বিগুণ পয়সা উশুলের রোমাঞ্চই হলো।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র এই ম্যাচে সব ছাপিয়ে আলোচনায় একটি সিদ্ধান্ত। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ও বার্সাকে সমতায় ফেরানো গোলদাতা জর্ডি আলবা যেটিকে বলছে ‘জঘন্য’।

ম্যাচের ঘড়িতে প্রায় ৩০ মিনিট। ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে বার্সা শুরু করেছে দারুণ দাপটে। কিন্তু রক্ষণদেয়ালে এসে ঠোকর খাচ্ছিল সব প্রচেষ্টার স্রোত। এমন সময় বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া মেসির আচমকা শট ঠেকাতে গিয়ে অপ্রস্তুত গোলরক্ষক গড়বড় করে ফেললেন। হাত ফসকে বল চলে গেল গোললাইনের দিকে। নিজের ভুল শুধরে নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে বল বাইরে ঠেলেও দিলেন নেতো। কিন্তু ততক্ষণে দাগ থেকে প্রায় ৬ ইঞ্চির মতো ভেতরে চলে গিয়েছিল বল।

রেফারি লাইন্সম্যানের দিকে তাকিয়ে গোল নাকচ করে দেন। সিদ্ধান্তটা এতটাই অবিশ্বাস্য ঠেকছিল বার্সার খেলোয়াড়দের কাছে, সেখান থেকে ভ্যালেন্সিয়ার পাল্টা আক্রমণ থামানোর কোনো চেষ্টা না করেই কয়েকজন চলে গেলেন লাইন্সম্যানের দিকে ছুটে। যেখানে মেসিও ছিলেন। হতচকিত, অপ্রস্তুত বার্সা সে যাত্রায় কোনোমতে যে গোলটা খায়নি, সে-ই ভাগ্য।

আলবা পিছিয়ে পড়া দলকে ফিরিয়েছেন দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে। ছবি: রয়টার্সকিন্তু গোল ঠিকই চলে গেল জালে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে কিছুটা রাকিতিচ ও কিছুটা ৬২৪ দিন পর বার্সার প্রথম একাদশে ফেরা ভারমায়েলেনের ভুলে ১-০ করে দেন রদ্রিগো। ভ্যালেন্সিয়া দ্বিতীয়ার্ধে উজ্জীবিত ফুটবল উপহার দিয়েছে। বার্সা তখনো যেন রেফারির সেই সিদ্ধান্তের ঘোর থেকে বের হতে পারেনি। স্বাগতিকদের স্পষ্ট দাপটে মনে হচ্ছিল, অবশেষে ১৮ ম্যাচ পর পরাজয়ের স্বাদ পেতে চলেছেন আর্নেস্তো ভ্যালভের্দে।

সেই সময় মেসির অবিশ্বাস্য হাওয়ায় ভাসানো বল তার চেয়েও অবিশ্বাস্য নিখুঁত ভলিতে জালে পাঠালেন আলবা। ম্যাচের ঘড়িতে ৮২ মিনিট। পারিপার্শ্বিক ঘটনায় বার্সার উদ্‌যাপন হলো বিস্ফোরণের মতো। সবচেয়ে জ্বলে উঠলেন যেন আলবাই, এই ভ্যালেন্সিয়া যে তাঁর সাবেক ঘর; ততক্ষণে সেই সম্পর্কের শেষ সুতোও টেনে ছেড়েছেন। গোল করলে অনাগত সন্তানকে উৎসর্গ করবেন, এমন ভেবে রাখা স্বর্গীয় উদ্‌যাপনের মধ্যেও তাই জমে থাকল বারুদের আঁচ!
আর তখন থেকে শেষের ৮-১০ মিনিট কী যে রোমাঞ্চর এক ফুটবল হলো! যার শেষটা হলো শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে ভ্যালেন্সিয়ার আরও একটি পাল্টা আক্রমণে হতে হতেও না-হওয়া গোল দিয়ে।

সহকারী রেফারি আর রেফারির সঙ্গে দুবার তর্কে জড়িয়েছেন মেসি। ছবি: রয়টার্সশেষের বাঁশি বাজার পর আলোচনায় হয়েও না-হওয়া প্রথমার্ধে সেই গোলটি। আলবা রীতিমতো কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন ম্যাচ শেষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়। এমন সব কথা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার মুখে না পড়েন!
ম্যাচের মাঝবিরতিতে রেফারি ও লাইন্সম্যানদের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বলতে দেখা গেছে মেসিকে। ম্যাচ শেষে মুখ আর আড়াল করার প্রয়োজনই বোধ করলেন না এ ম্যাচে পুরোদস্তুর মিডফিল্ডার হয়ে খেলা নাম্বার টেন। রেফারিদের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু মেসি খেপলে রীতিমতো নিষেধাজ্ঞা পাওয়া কাণ্ড করে বসেন।
ম্যাচ শেষে এবারও রেফারিদের এমন কিছু বলেছেন কি না, সেটাও হয়ে থাকল কৌতূহলের বিষয়। গত জানুয়ারিতেই রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে এমন বাজে সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছিল বার্সা। আজ হারাতে হলো ২ পয়েন্ট। সেটিও কিনা শীর্ষ দুই দলের লড়াইয়ে! মেসি খেপবেনই তো।

আপাতত বার্সা ১৩ রাউন্ডের লড়াই শেষে ভ্যালেন্সিয়ার চেয়ে ৪ আর দুই মাদ্রিদের চেয়ে ৮ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে ফিরে আসতে পারল ঘরে। সঙ্গে ফিরল এই ম্যাচে ৫ বার অফসাইডের ফাঁদে পড়া লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে একটা প্রশ্নও। নেইমারের বিদায় এবং ডেম্বেলের এসেই ইনজুরি—অপ্রত্যাশিত এই জোড়া এই ধাক্কাটা সামলে নিতে সবাইকে দুই কদম জোরে ছোটানোর ফলে বার্সার ফুসফুসের দম বেরিয়ে যাচ্ছে! সুয়ারেজ হাঁপর ভরে শ্বাস নেবেন কবে!