ইমরুল কায়েস তৈরি থাকেন ব্যাগ গোছাতে কিংবা বাদ পড়তে—দেশের ক্রিকেটে এ ব্যাটসম্যানকে নিয়ে কথাটি প্রায়ই আলোচিত হয়। হয় দল থেকে বাদ পড়ছেন কিংবা কেউ চোট পেলে শূন্যস্থান পূরণ করছেন, এটি ইমরুলকে ঘিরে গত কয়েক বছরের চিত্র। এর মাঝে আবার দুর্ভাগ্যও আঘাত হেনেছে। কিন্তু ক্রিকেটারদের এতসব ভাবলে চলে! যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকতে হয়। আগামী মাসেই ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। ইমরুল সে সফরের প্রস্তুতি হিসেবেই আজ জাতীয় লিগে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর ইনিংসটিকে রূপান্তরিত করছেন প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে!

খুলনায় জাতীয় লিগে প্রথম স্তরের ম্যাচে রংপুর বিভাগের মুখোমুখি হয়েছে স্বাগতিকেরা। এ ম্যাচে আজ খুলনার হয়ে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ২০২ রানের ইনিংস খেলেছেন ইমরুল। প্রায় ১১ মাস জাতীয় দলের বাইরে থাকা এ ব্যাটসম্যানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। ২০১৪ সালে বিসিএলে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন ইমরুল। চার দিনের এ ম্যাচে ৯ উইকেটে ৪৫৪ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে খুলনা। এর আগে প্রথম ইনিংসে ২২৭ রানে অলআউট হয়েছিল রংপুর। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আজ শেষ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে রংপুর।

গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন ইমরুল। জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পেও ছিলেন তিনি। একদিন অনুশীলন করার পরই জানতে পারেন, তাঁর ছেলের ডেঙ্গু হয়েছে। এ দুর্ভাগ্যের জন্যই তখন জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেয়েও লুফে নিতে পারেননি ইমরুল। এবার ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় প্রথম সুযোগেই ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ভারত সফরে যাওয়ার দাবিটা আগেভাগে জানিয়ে রাখলেন তিনি।




খুলনার হয়ে তিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ইমরুল। সেঞ্চুরি তুলে নেন ১৮৩ বলে। তখন খুলনার সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২২৮। যেহেতু স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে কেউ ছিল না তাই পরের ১০০ রান করতে হাত খুলে খেলেন তিনি। এই ১০০ রান করতে তাঁর লেগেছে ১২৮ বল। সব মিলিয়ে ৩১৯ বলে ২০২ রানের অপরাজিত ইনিংসটি সাজান তিনি। ৪০৬ মিনিট উইকেটে থেকে ৬ ছক্কা ও ১৯টি চার মেরেছেন এ ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে রুবেল হোসেন ৪৪ বলে ২ রান করে কার্যকরি সঙ্গ দেন ইমরুলকে।আগামী মাসে ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ছাড়াও স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে তারা।